লেখা: জাহিদ হাসান

আঁকা: শিখা

 

টাকা জমা রাখার পরিমাণের ভিত্তিতে ক্লায়েন্টদের খাতির-যত্ন করে ব্যাংকগুলো। এভাবে বাংলাদেশিদের টাকা সুইস ব্যাংকে বাড়তে থাকলে আমাদের খাতিরের শিখরে নিয়ে যাবে তারা।

হেই জেন্টলম্যান, হোয়াটস দিস? রানি আমারে পাঠাইছে তাঁর ডিপিএসের টাকা জমা দিতে, আর আপনারা কী করতেছেন?

ডুড, ইটস রিয়েলি ব্যাড। চিনেন আমারে? আমি ট্রাম্পের আপন ফুপাতো ভাই। শিগগির কামডা সাইরা দেন। মেলানিয়া ভাবি শপিংয়ে যাইবেন।

দূর মিয়া, এখন আমাদের কাজ বন্ধ। বাংলাদেশি ক্লায়েন্ট আছেন, দেখেন না?

 

অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সুইস ব্যাংকে রাখা টাকার পরিমাণ কমছে, সেখানে বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ অবিশ্বাস্য রকম বাড়ছে। এতে পরিষ্কার যে অর্থনৈতিকভাবে আমরা শীর্ষে আছি।

বাংলাদেশে ডাস্টবিন, পরিত্যক্ত জায়গায় মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ গাড়ি পড়ে থাকে! শেষে পুলিশকে গিয়ে সরাতে হয়!

আরে ব্যাটা, আমগো তো পোড়াকপাল, আমেরিকায় জন্ম। এদের সঙ্গে তুলনা করলে হয়? একমাত্র বাংলাদেশিরাই এ রকম করতে পারে।

 

সফল ব্যক্তিদের পরামর্শ মহামূল্যবান। সুইস ব্যাংকে টাকা রাখায়

এ রকম অভূতপূর্ব কীর্তি গড়ার কারণে সবাই বাংলাদেশিদের

পরামর্শক হিসেবে পেতে চাইবে।

ব্রো প্লিজ, আমি ইতালিয়ান, দূর থেকে এসেছি। একটু দেখেন তাড়াতাড়ি পরামর্শক স্যারের সঙ্গে দেখা করানো যায় কি না।

রাখেন মিয়া ইতালি, আমি এসেছি অস্ট্রেলিয়া থেকে। সিরিয়াল আমার আগে প্রাপ্য।

কোইত্থেইকা আইছেন, ওসব বুঝি না। নাশতা-পানি করার লাইগা কিছু দিয়া ফালান, ব্যাপারটা দেখতাছি।

মায়ের দোয়া সুইস সঞ্চয় পরামর্শ কেন্দ্র

 

বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে এ রকম মহান অর্জনের

পদ্ধতি নিয়ে বই লিখে পরবর্তী নোবেল পুরস্কারও পেয়ে

যেতে পারেন বাংলাদেশি কেউ।

মাইকেল ভাই, বইটা তো ফুল পড়লাম, কিন্তু কিছুই মালুম হইতেছে না।

ক্যান? এমন জটিল তো কিছুই লেখা নাই। প্রতিটা লাইনে টান টান উত্তেজনা।

আরে, বইয়ের লেখা তো বুঝলাম। মাগার এইটা তো টাকা লুকায়া বর্ডার পার করার কাহিনি। এইটা অর্থনীতির বই না থ্রিলার কাহিনি?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here