স্টাফ রিপোর্টার ॥ এক বছর ধরে নিখোঁজ থাকা ৬ সোমালিয়ান শিক্ষার্থী অবশেষে থানায় এসে ধরা দিয়েছেন। ঢাকার একটি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর ফিরে আসা শিক্ষার্থীরা এভাবে আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়ে দুঃখ প্রকাশও করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশও তাদের সতর্ক করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। বিদেশী শিক্ষার্থী হিসেবে সব নিয়ম-কানুন মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে তাদের। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন- তার খরচ জোগাতে না পেরেই কম খরচের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেজন্যই তারা আত্মগোপনে যান।

পুলিশ জানায়, এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ওই ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজন সোমবার সকালে উত্তরা পশ্চিম থানায় এসে যোগাযোগ করেন। বাকি আরেকজন থানায় যোগাযোগ করলেও সশরীরে হাজির হননি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আত্মগোপনে থাকা ছয় সোমালিয়ান শিক্ষার্থীর পাঁচজন নিজে থেকেই প্রথমে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচারার এ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) এবং পরে থানায় এসে ধরা দেন। তারা হলেন সাকিদ হাসান বুয়ে, আবদি রহমান আব্দুলাহি হাসান, মোহাম্মদ আবুকার দাহির, আলী সালাদ ও আব্দির রহমান আব্দুলাহি হাসান। তবে সাকির ওমর শেইখ আব্দুল কাদির নামের আরেক শিক্ষার্থী যোগাযোগ করলেও সশরীরে থানায় যাননি।

গত ২০১৬ সালের শেষের দিকে পড়ালেখার উদ্দেশে ঢাকায় আসেন সাত সোমালিয়ান শিক্ষার্থী। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে তারা ভর্তি হন ঢাকার আইইউবিএটিতে। তিন মাস পরই তারা নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ওই বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বেগ জানিয়ে ২০১৭ সালের ২৪ জুলাই উত্তরার পশ্চিম থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি করে। এরপর গত আট মাসেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজের তিন মাস পর সিরাজি মোহাম্মদ আলী নামের এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি ২০১৭ সালের জুন মাসের বকেয়া টাকা পরিশোধ করে তার পাসপোর্ট নিয়ে যান। তিনি বর্তমানে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিতে বিবিএতে পড়ছেন বলে জানিয়েছে আইইউবিএটি। আত্মগোপনে থাকা ছয় সোমালিয়ান শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়ার পর আইইউবিএটি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ সোমালিয়ান শিক্ষার্থীদের সন্ধান পাওয়া গেছে মর্মে একটি লিখিত দরখাস্ত দেন থানায়।

উত্তরা পশ্চিম থানা সূত্রে জানা গেছে, এই সোমালিয়ান শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোহাম্মদ আবুকার দাহির ও সাকিদ হাসান বুয়ে রাজধানীর সিটি ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করছেন এবং আলী সালাদ, সাকির ওমর শেইখ আব্দুল কাদির ও আবদি রহমান আব্দুল্লাহি হাসান পড়ছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। তাদের ইউনিভার্সিটির আইডি কার্ডের কপি রেখে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ছয় সোমালিয়ান শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তারা আইইউবিএটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়ে তারা নিখোঁজ হন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here