ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮৯ রানে বেঁধে ফেলার পর ভারতের জয়ই দেখছিল সবাই। রাহানে-ধাওয়ান-কোহলি-ধোনি-পান্ডিয়াদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপ ১৯০ করতে পারবে না, সেটি কীভাবে হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ক্যারিবীয়দের ১৮৯ রান তাড়া করতেই হ–য–ব–র–ল ভারতের ব্যাটিং। অজিঙ্কা রাহানে আর মহেন্দ্র সিং ধোনিই যা একটু খেললেন। এই দুজনের ব্যাটে অ্যান্টিগার চতুর্থ ওয়ানডেতে সম্ভ্রম রক্ষা হলেও হারটা এড়াতে পারেনি ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জ্যাসন হোল্ডার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেই ধসিয়ে দিয়েছেন বিরাট কোহলির ভারতকে। স্বল্প পুঁজিতে দলকে এনে দিয়েছেন ১১ রানের দুর্দান্ত এক জয়।
অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামের এই উইকেটে ব্যাটিং করাটা কঠিনই ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের সময়ই সেটি বোঝা গিয়েছিল বাউন্ডারির অভাব দেখে—ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা ইনিংসের একপর্যায়ে টানা ৮৩ বল বাউন্ডারি ছাড়া কাটিয়ে দেন। ভারতের ব্যাটিংয়ের সময় ধোনি ১০৮ বলে ফিফটি করেন, যা ২০০১ সালের পর যেকোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যানের মন্থরতম ইনিংস। এটি ধোনির নিজের ক্যারিয়ারেরও সবচেয়ে মন্থরতম ইনিংস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের স্কোর দেখুন—এভিন লুইস ৩৫, কাইল হোপ ৩৫, শাই হোপ ২৫ আর রোস্টন চেজ ২৪। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ভালো শুরুর পরেও ২০ থেকে ৪০ রানের মধ্যে আউট হয়ে ফিরলেন শীর্ষ চার ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান। এর আগে ২০০৩ সালে কিংস্টোনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন অবস্থায় ফিরেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। এই চারজনের বাইরে জেসন মোহাম্মদের ২০ আর দেবেন্দ্র বিশুর ১৫ ছাড়া বলার মতো কিছুই করতে পারেননি কেউ। ৪৮ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহটা দুই শও পার করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর ভারতের জার্সিতে কালই প্রথম খেলতে নেমেছিলেন মোহাম্মদ শামি। খুব খারাপ করেননি। ১০ ওভারে ৩৩ রান দিলেও উইকেট পাননি। তবে ক্যারিবীয় ব্যাটিংকে বিপদে ফেলেছেন হার্দিক পান্ডিয়া ও উমেশ যাদব। দুজনেই নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। কুলদীপ যাদব নিয়েছেন ২ উইকেট।
১৮৯ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি ভারতের। দলীয় ১০ রানে ফেরেন শিখর ধাওয়ান, ২৫ রানে কোহলি আর ৪৭ রানে দিনেশ কার্তিক। ধাওয়ানকে ফেরান আলজারি জোসেফ, তবে কোহলি আর কার্তিককে ফিরিয়েছেন হোল্ডার। রাহানে ৬০ রান করে এই সিরিজে নিজের রান নিয়ে যান ২৫৭-এ। এটাও একটা রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এর আগে ওয়ানডে সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার ও রোহিত শর্মা। ২০০৭ সালে টেন্ডুলকারের পর ২০১১ সালে রোহিত ব্যাট হাতে রাজত্ব করেছিলেন। এবার করছেন রাহানে।
রাহানে ৯১ বলে, ৭টি চারে ৬০ রান করে বিশুর বলে শাই হোপের ক্যাচ হন। ধোনি ১১৪ বলে ধৈর্যশীল ৫৪ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন কেসরিক উইলিয়ামসের বলে আলজেরি জোসেফের হাতে ক্যাচ দিয়ে। কেদার যাদবকে ফেরান নার্স। হোল্ডার এরপর একে একে ফেরান রবীন্দ্র জাদেজা, হার্দিক পান্ডিয়া ও কুলদীপ যাদবকে। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ভারতের ইনিংস শেষ হয় ১৭৮ রানেই।
ম্যাচ শেষে ব্যাটসম্যানদের শট নির্বাচনকেই এই হারের জন্য দায়ী করেছেন কোহলি, ‘আমরা ভুল শট খেলে আউট হয়েছি। তবে আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের কৃতিত্ব দেব। তারা দারুণ বল করেছে। তারা আমাদের ভুল করতে বাধ্য করিয়েছে।’ সূত্র: ক্রিকইনফো, এএফপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here