প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর অতিক্রম করে ৫৬ বছরে পদার্পন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করেন। ২০০১ সাল থেকে প্রশাসন দিনটিকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবসটি পালন করা হয়।
‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’ জাহাঙ্গীরনগরে সকাল সাড়ে নয়টায় পুরাতন কলাভবনের সামনে ‘মৃতমঞ্চে’ বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জমায়েত শুরু হয়। সকাল দশটায় প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ভাষণ দানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. আবদুর রব।
সকাল সাড়ে দশটায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রার পর সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের আরোগ্য কামনায় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া শেষে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের চত্বরে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির উদ্বোধন করে।
বেলা পৌনে বারোটায় সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে সাবেক-বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণের স্মৃতিচারণ সহ বিকালে পুতুল নাচ ও কলতান বিদ্যা নিকেতনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ একই সময়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, প্রাক্তন-বর্তমান নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি হ্যান্ডবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
সন্ধ্যায় সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে পিঠা মেলা বসে। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আল্পনা ও গ্রাফিতি প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭০-১৯৭১ শিক্ষাবর্ষে ৪ জানুয়ারি অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত এবং পরিসংখ্যান-এই চারটি বিভাগে ভর্তিকৃত (প্রথম ব্যাচে) ১৫০জন ছাত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. সুরত আলী খান। বিশিষ্ট রসায়নবিদ অধ্যাপক ড. মফিজ উদ্দিন আহমদ প্রথম উপাচার্য হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র: যুগান্তর