
যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেবল একজন সেনাপতি বা রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন পথহারা এক জাতির আলোকবর্তিকা ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি। সাহিত্যের বিস্ময় কাজী নজরুল ইসলাম যেমন পরাধীন জাতির হৃদয়ে জাগরণের গান গেয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান তেমনি রাজনীতির রণক্ষেত্রে ‘উই রিভোল্ট’ (আমরা বিদ্রোহ করলাম) ঘোষণার মাধ্যমে নিগৃহীত বাঙালিকে মুক্তির দিশা দেখিয়েছিলেন। নজরুল ও জিয়া, উভয়েই আমাদের জাতীয় ইতিহাসে একেকটি ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়ে অন্ধকার দূর করেছেন।
শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘শহীদ জিয়া : গণতন্ত্রের মুক্তিদাতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় আবদুল হাই শিকদার বলেন, শহীদ জিয়ার মা জাহানারা বেগম ছিলেন নজরুলসংগীত শিল্পী। মায়ের কোলে বসেই শিশু জিয়া নজরুলের সাম্যের ও জাগরণের সুর শুনে বড় হয়েছেন। নজরুলের বিদ্রোহী সত্তা তার রক্তে মিশেছিল। নজরুল যেমন বাংলা সাহিত্যের স্থবিরতা কাটিয়ে ভেঙে চুরমার করেছিলেন, জিয়াউর রহমানও তেমনি ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতার মুহূর্তে শৃঙ্খল ভেঙে গর্জে উঠেছিলেন।
পঁচিশে মার্চের ভয়াবহ পরিস্থিতির স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন চট্টগ্রামের অখ্যাত এক মেজর জিয়াউর রহমান সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বক্তারা শারমিন আহমদের (তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা) বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সেদিন তাজউদ্দীন আহমদ বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক শূন্যতা পূরণ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার কণ্ঠ শুনেই একটি জাতি দীর্ঘ বঞ্চনা ঝেড়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস পেয়েছিল।
নজরুল ও জিয়ার সম্পর্কের আরও একটি দিক তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার বলেন, নজরুলকে ঢাকায় এনেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, কিন্তু তাকে এ দেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।
শুধু তা-ই নয়, নজরুলের সম্মানে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ ও ‘একুশে পদক’ প্রবর্তন করেন তিনি। এমনকি নজরুলের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করার ক্ষেত্রে সব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করেছিলেন জিয়াউর রহমানই।
আলোচনায় উঠে আসে ১৯৭৫ সালের সাতই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের কথা।
তিনি বলেন, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও ১৯৭৫-এর বিপ্লব সফল হয়েছিল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থার কারণে। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের মাধ্যমে দ্বিধাবিভক্ত জাতিকে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন। শশাঙ্ক থেকে শুরু করে পাল, সেন ও সুলতানি আমলের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের যে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন, তাকে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে দাঁড় করিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।
যুগান্তর সম্পাদক বলেন, ১৯৭২ পরবর্তী শাসনকালে দেশ যখন দুর্ভিক্ষ, লুটপাট আর ফ্যাসিবাদের বিষবৃক্ষে ছেয়ে গিয়েছিল, তখন জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন এমন এক নেতা, যার সততা ও দেশপ্রেম বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
সূত্র: যুগান্তর