শিরোনাম:

নওগাঁয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী আটক

নারী-‎শিশু নির্যাতন বন্ধে মহিলা জামায়াতের মানববন্ধন, ১০ দফা প্রস্তাবনা

ইফতারের পর মাথাব্যথা? এড়াবেন যেভাবে

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন উপকারী

ইফতারে সুস্বাদু ডিমের চপ

নওগাঁয় নিখোঁজের ১৯ মাস পর সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার, ঘাতক গ্রেফতার

শিরোনাম২৪ঃ
প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

নওগাঁ:

নওগাঁর আত্রাইয়ে নিখোঁজের ১৯ মাস পর চাঞ্চল্যকর সুমন (৩৯) হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। সেইসাথে ঘটনার সাথে জড়িত ঘাতক শাফিউল নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ডোবা থেকে সুমনের গুম লাশের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। সুমন উপজেলার পয়সা গ্রামের শাহাদাত হোসেন এর ছেলে। আটক শাফিউল একই গ্রামের বাসীন্দা।

নিহতের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়- ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে সুমন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়। পরবর্তীতে ২২ জুন এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। সুমনের বাড়ির পাশে ইটের টুকরার রক্ত লেগে থাকা দেখতে পায় পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরবর্তীতে থানা পুলিশ ইটে লেগে থাকা রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করে ‍সুমনের রক্ত বলে সনাক্ত করা হয়।

ঘটনায় সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০২৫ সালে ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানার মামলা দায়ের করেন। তবে কোন তথ্য না থাকায় পুলিশ মামলার কোন কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছিল না।

গত এক সপ্তাহ আগে ভিকটিম সুমনের পরিবার এবং স্বজনরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পুলিশ সুপার তাদের বক্তব্য শোনার পর মামলার ডকেট পর্যালোচনা করেন। পুণরায় মামলাটি তদন্ত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এবং আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করা করেন।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে আসামি শাফিউল কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি সুমনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। গ্রেফতারকৃত শফিউল জানায়, সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় এবং স্ত্রীর হাত ধরায় ক্ষিপ্ত হয়।

২০২৪ সালের ২০ জুন রাতে শাফিউল ও ছোট ভাই সায়েম মিলে ভিকটিম সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয়। রাতেই বাড়ির পাশে নির্জন রাস্তায় নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে সুমনের মরদেহ দুই ভাই মিলে গুম করার জন্য পাশে ডোবায় নিচু জায়গায় মাটি দিয়ে চাপা দিয়ে রাখে।

ঘাতক শাফিউলের দেওয়া তথ্যে কয়শা গ্রামের রমজানের পুকুরের পানির ডোবা সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুমনের হাড়গোড় এবং বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য সায়েম কয়েক মাস পূর্বে আত্মহত্যা করেছে।

নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন- পুলিশ একটি ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনে সফল হয়। যা জেলা পুলিশের আরও একটি সাফল্য। জেলার যে কোন অপরাধ উদঘাটন এবং দমন করতে পুলিশ প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত