
নওগাঁ:
নওগাঁর বিভিন্ন মাঠে শীতকালিন বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজিতে ভরপুর। চারদিকে সবুজের সমারোহ। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কমেছে দাম। দাম কম হাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষীরা। উৎপাদন খরচ বাড়ায় এবং দাম কম হওয়ায় হতাস হয়ে পড়েছেন তারা।
সবজি ভান্ডার খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁ। জেলার বিভিন্ন মাঠে সবুজের চাদরে মোড়ানো শীতকালিন বিভিন্ন শাক-সবজি। শীম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন ও লাউ সহ অন্তত ২০ প্রকার শীতকালিন শাক-সবজি চাষবাদ হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ জেলার শাকসবজি চলে যায় ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বেড়েছে উৎপাদন। তবে উৎপাদন বেশি হলেও দাম কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। পাইকারি পর্যায়ে প্রকারভেদে টমেটো ৫০ টাকা কেজি, শীম ১২-১৫ টাকা, বেগুন ও গাজর ৩০ টাকা, মুলা ১৫-২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৮-১২ টাকা পিস ও লাউ ১৫-২০ টাকা পিস।

কৃষকরা বলছেন- শাক-সবজি চাষাবাদে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় তারা দাম পাচ্ছেন না। বাজারে বিভিন্ন ধরণের সবজির সরবরাহে বেশি হওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। এছাড়া চাহিদা মতো রাসায়নিক সার না পাওয়ায় বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। সার ও কীটনাশকের বাড়তি দামে সবজি চাষাবাদে বেড়েছে খরচ। আর সবজির দাম কমায় উৎপাদন খরচ উঠা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। আর কৃষকরা ফসল ফলিয়ে দাম না পেলেও সবজি কিনে লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্তভোগীরা।
নওগাঁ সদর উপজেলার লক্ষিপুর গ্রামের কৃষক আতাউল হক। চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে দেশী জাতের শীমের আবাদ করেছেন। যেখানে বিঘাতে খরচ পড়েছে অন্তত ৩০ হাজার টাকা। ৪ মাসের এ ফসল বিক্রি হয় প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত খরচের টাকা উঠলেও দাম কমে আসায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
কৃষক আতাউল হক বলেন- বেশ কিছুদিন থেকে শীমের দাম কম। তবে শীম বাঁচাতে রোগ ও পোকামাড়ক নিয়ন্ত্রনে সপ্তাহে প্রায় ৬০০-৭০০ টাকা কীটনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। যে দাম দিয়ে শীম বিক্রি হচ্ছে তা থেকে পরিশ্রম ও কীটনাশক ব্যয়ে লোকসান হচ্ছে। লাভ হবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
লক্ষনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন- বাজারে সবধরণের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এজন্য দাম কম এবং আমরা কৃষকরা লোকসানে পড়েছি। এছাড়া সজিতে সার জিতে হবে, দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার পাওয়া গেলেও ডিএপি সরকারি দাম ১ হাজার ৫০ টাকা, আমাদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা বস্তা। অথচ বাজারে সবজি বিক্রি করতে গেলে দাম নাই।
চকবালুভরা গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন বলেন- সবজি উৎপাদনে যে খরচ হচ্ছে সে টাকাই উঠছে না। লোকসান করে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। আগাম সবজির দাম ভাল পাওয়ায় কিছুটা সুবিধা হয়েছে। এখন ভরমৌসুমে যেসব সবজি উঠছে সেগুলোর দাম পাওয়া যাচ্ছে না। জমি তো আর ফেলে রাখা যায় না। বাধ্য হয়ে চাষবাদ করতে হয়।
সোনারপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন- গত বছর এই মৌসুমে ফলকপি বিক্রি হয়েছিল ৩০-৩৫ টাকা পিস। এবার তা বিক্রি হচ্ছে ৮-১২ টাকা পিস। যেখানে খরচই হচ্ছে ৮ টা পিস। কপির দাম কমে যাওয়ার কারণ পাইকারি ব্যবসায়িরা মৌসুমের শুরুতে কৃষকদের কাছ থেকে কিনে ঢাকায় নিয়ে যেতো। এখন ব্যবসায়িরা কপি ঢাকায় না নেয়া দাম কমেছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডল বলেন- জেলায় এ বছর শীতকালিন শাকসবজির লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯ হাজার ৬০০ হেক্টর। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর। যা থেকে প্রায় দেড় লাখ টন শাকসবজি উৎপাদনের আশা। আগাম সবজির দামে কৃষক লাভবান হলেও ভরমৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় কমেছে দাম। তবে অতিরিক্ত সবজি সংরক্ষণ করা গেলে কৃষক লাভবান হবেন।