শিরোনাম:

নওগাঁয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী আটক

নারী-‎শিশু নির্যাতন বন্ধে মহিলা জামায়াতের মানববন্ধন, ১০ দফা প্রস্তাবনা

ইফতারের পর মাথাব্যথা? এড়াবেন যেভাবে

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন উপকারী

ইফতারে সুস্বাদু ডিমের চপ

নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করেই জীবন সংগ্রামে সফল দম্পতি

শিরোনাম২৪ঃ
প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার শিবপুর গ্রাম। গত সাত বছর ধরে এ গ্রামের এক দম্পতি নিরাপদ খাদ্যের আন্দোলন করে যাচ্ছেন। নিজেদের বাগানে ফলমূল, ফার্মের হাঁস-মুরগি, কোয়েল পাখি, ডিম উৎপাদন করছেন। সেখান থেকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাকিগুলো সরবরাহ করছেন ক্রেতাদের কাছে। এতসবের পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য ঘটনা। উচ্চশিক্ষিত এই দম্পতির কাজগুলো প্রথম প্রথম সবাই পাগলামি বলে হাসাহাসি করত। এখন নিরাপদ খাদ্যের এই আন্দোলন তাদের জীবনে এনেছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। দেহ-মনেও তারা সুস্থ আছেন। এখন প্রতিবেশীরাও স্বপ্ন দেখেন তাদের মতো হবেন।

নাজমা ও তাজুল ইসলাম দম্পতি উচ্চশিক্ষিত হয়েও কেন কৃষিতে মনোনিবেশ করেছেন, সে ঘটনা তাদের মুখ থেকেই শোনা যাক।

তাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। লেখাপাড়া শেষে একটি কোম্পানির বড় পদে চাকরি করতেন। তারা থাকতেন চট্টগ্রামে। স্ত্রী নাজমা আক্তার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে একটি কলেজে চাকরি করতেন। সাত বছর আগের কথা। তাদের মেয়ে তখন ছোট। শহরের পরিবেশ আর খাবার তার সহ্য হতো না। প্রায়ই অসুস্থ থাকত। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, গ্রামে ফিরে যাবেন। নিজেদের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করবেন। যে ভাবনা, সেই কাজ। ফিরে আসেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই বাজারসংলগ্ন শিবপুর গ্রামে। শুরু করেন চাষাবাদ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন। তার মধ্যে রয়েছে কোয়েল, দেশি মোরগ, গরু পালন, জৈব সার উৎপাদন, ধান, সবজি, কলা ও মাছ চাষ, সরিষা সংগ্রহ করে তেল উৎপাদন, নারিকেলের চিড়া, আমসত্ত্ব, কুলের আচার তৈরি।

পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে তা বাজারজাত শুরু করেন। ফেসবুকে নিরাপদ খাদ্যযুদ্ধ নামের পেজ খোলেন। সেখানে পণ্যের বিষয়ে তথ্য জানিয়ে দেন। ক্রেতা তার পরিমাণ জানালে নিকটে হলে সরাসরি ডেলিভারি এবং দূরে হলে কুরিয়ারে পাঠান।

তাজুল বলেন, ‘প্রথম প্রথম প্রতিবেশীসহ অনেকেই বলতেন আমরা নাকি পাগলামি শুরু করেছি। দুজনই উচ্চশিক্ষিত হয়ে কেন কৃষিতে মনোনিবেশ করেছি। অনেকেই হাসাহাসি করতেন। তখন আমাদের জেদ আরও বেড়ে যায়। এখন আমরা বেশ তৃপ্তির হাসি দিই। কারণ ভেজালের এই যুগে আমরা শুধু নিজেরাই নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করি না, আমাদের উৎপাদিত নিরাপদ কৃষিপণ্যগুলো দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে বিক্রিও করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী মিলেমিশে কাজ করি। তাই আমাদের কাজ করতে কষ্ট হয় না। মনের আনন্দে কাজ করি।’

শিবপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নাজমা ব্যস্ত কোয়েল-মুরগির খামার ব্যবস্থাপনায়। উঠানে গ্রামের নারীরা বসেছেন নারিকেল কুঁচি করতে। তাজুল ইসলাম পণ্য ডেলিভারি দিয়ে এসে বসেছেন তেলের প্যাকেজিং করতে। তাকে সহযোগিতা করছেন নাজমা।

নাজমা আক্তার বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী মিলে সিদ্ধান্ত নিই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের। তিনি দেশের বিভিন স্থানে ঘুরে ভালো পণ্য সংগ্রহ করেন। আমরা যা খাই, তা ভোক্তাদেরও সরবরাহ করি। প্রথমদিকে এ কাজে নামলে কিছু প্রতিবেশী হাসাহাসি করতেন। বলতেন- লেখাপড়া করে কামলা হয়েছে। আমরা ভালো করার পর অবশ্য তারাই আবার দেখতে আসেন। নিজে ভালো খাওয়া এবং অন্যকে সরবরাহ করাতে আমাদের অনেক আনন্দ হয়।’

সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর খান বলেন, ‘এই দম্পতির উদ্যোগ ব্যতিক্রম। তাদের মতো শিক্ষিত উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে কৃষি আরও এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো পণ্য পাবেন।’

সূত্র: দৈনিক বাংলা

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত