প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেছেন, ওষুধ মানসম্মত না হলে তা কখনোই ওষুধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। ওষুধ মানেই মানসম্মত ওষুধ। মানহীন কোনো কেমিক্যাল সাবস্ট্যান্সকে কোনোভাবেই ওষুধ বলা যায় না। বাজারে প্রচলিত ‘ভালো ওষুধ’ বা ‘খারাপ ওষুধ’—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বাজারে ওষুধের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, ভালো মানের ওষুধ বলে কিছু নেই। ওষুধ হয় মানসম্মত, না হয় ওষুধই নয়। যদি একটি কার্যকর রেগুলেটরি এনভায়রনমেন্ট এবং মান রক্ষার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে মান পূরণ করলেই সেটি ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হবে। মান না থাকলে সেটি কোনোভাবেই ওষুধ নয়।
প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী আরও বলেন, প্রতিটি ওষুধের ক্ষেত্রে ফার্মাকোপিয়া অনুযায়ী নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারিত থাকে। যেমন—ওষুধের কার্যকারিতা অনুযায়ী রক্তে শোষণের মাত্রা, ভাঙতে (ডিসলভ) কত সময় লাগবে, পিএইচ মান কত হবে—সবকিছুই নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে। এ মানদণ্ডগুলো পূরণ করলেই শুধু সেটি ওষুধ। এর সামান্য বিচ্যুতি মানেই সেটি আর ওষুধ নয়।
তিনি বলেন, প্রশ্ন উঠতে পারে—দেশের বাজারে থাকা সব ওষুধের মান নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা কি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারছে? যদি মান যাচাইয়ের মেকানিজমে দুর্বলতা থাকে, তাহলে ফাঁকফোকর দিয়ে কিছু মানহীন কেমিক্যাল সাবস্ট্যান্স বাজারে থাকতে পারে। কিন্তু সেগুলোকে আমি ওষুধ বলতে রাজি নই।
সায়েদুর রহমান স্পষ্ট করে জানান, মান নিশ্চিত করা ছাড়া ওষুধ বাজারে থাকার কোনো নৈতিক বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি।
সূত্র: জাগোনিউজ২৪