স্বজনের হাসি-কান্না কিংবা নাগরিক কোলাহল; জন্মের পর থেকে কিছুই শোনা হয়নি রফিকুল ইসলামের। পরিবারে বাবাই একমাত্র স্বল্প উপার্জনকারী ব্যক্তি হওয়ায় জীবনের পরের ধাপগুলোও রফিকুলকে পাড়ি দিতে হয় আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে। যতটুকুই সামনে এগিয়েছেন, ততটুকুতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে সাধ্যের মধ্যে দেখা স্বপ্ন বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষা।
লড়াকু এই তরুণ স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রকৌশলী হওয়ার। ডিপ্লোমা শেষ করেছেন। এখন বিএসসি পড়ছেন। সংগ্রাম শেষ হয়নি। বার্ধক্যের কারণে বাবার চাকরি চলে যাওয়ার পর পরিবার পড়ে যায় বিপদে। এবার পরিবারকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় রফিকুলকে। শুরু হয় চাকরি খোঁজার সংগ্রাম।
ঢাকার মতো শহরে চাকরি যেখানে সোনার হরিণ, সেখানে রফিকুল একদিনেই উপার্জন শুরু করেছেন, বিষয়টি এমন নয়। চেষ্টার এক পর্যায়ে সাক্ষাৎকারের ডাক পান একটি ফুড ডেলিভারি কোম্পানি থেকে।
কোম্পানির কার্যক্রম অ্যাপনির্ভর হওয়ায় কাজটা করা রফিকুলের জন্য কিছুটা সহজ হয়েছে। মোবাইল ফোনের অ্যাপে দেখা যায়, কোথায় থেকে অর্ডার এসেছে এবং রেস্তোরাঁর লোকেশন কোথায়। শুনতে না পারলেও রফিকুল গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অ্যাপের চ্যাট ফিচারের মাধ্যমে।
রফিকুল যে কোম্পানিতে কাজ করেন, তার নাম ফুডি। এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ মান্নান বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য শুধু চাকরি দেওয়া নয়; আমরা চাই মানুষের জীবনে পরিবর্তন এবং স্বপ্নের পথে নতুন প্রেরণা জোগাতে। রফিকুলের গল্প আমাদের সেই লক্ষ্যের উদাহরণ।’
শাহনেওয়াজ মান্নান জানান, কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকে রফিকুল ধীরে ধীরে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন। তাঁর এই পেশায় এখন হাজারো তরুণ এ কাজ করছে। একটু সহযোগিতার হাত বাড়ালে রফিকুলের মতো অসংখ্য তরুণ জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার সাহস পাবে; প্রেরণা পাবে প্রতিবন্ধকতা উতরানোর।
সূত্র: সমকাল