সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারী আগামী দুই বছরের মধ্যে তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকগুলো নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, ‘আমানত ফেরতের সিদ্ধান্ত শরিয়াহ কাউন্সিলের পরামর্শ ও সম্মতির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিই কঠোরভাবে শরিয়াহ কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গভর্নর স্পষ্ট করে বলেন, সরকার শুধু আমানতের মূল টাকা ফেরত দিচ্ছে—এমনটি নয়। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সাল পর্যন্ত কাগজে-কলমে যে বিনিয়োগ মুনাফা বা ইন্টারেস্ট দেখানো হয়েছিল, সেটিও আমানতকারীদের পরিশোধ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘কেউ যদি দীর্ঘ সময় ধরে—ধরা যাক ১০ বছর—এই ব্যাংকগুলোতে টাকা রেখে থাকেন, তাহলে তিনি তার সম্পূর্ণ মূলধনের পাশাপাশি ওই সময় পর্যন্ত দেখানো রিটার্নও পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার কারণে সেই বিনিয়োগ সঠিকভাবে পরিচালিত না হয়ে থাকলেও বা বাস্তবে আদৌ বিনিয়োগ না হয়ে থাকলেও, আমানতকারীদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ড. মনসুর বলেন, ইসলামি ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত বিনিয়োগে ক্ষতি হলে তা সাধারণত অংশীদারদের মধ্যে ভাগাভাগি হওয়ার কথা। তবে এ ক্ষেত্রে সেই ক্ষতি আমানতকারীদের ওপর চাপানো হয়নি। বরং সরকার নিজেই সেই দায় গ্রহণ করেছে।
গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের সংশোধিত হিসাবে এসব ব্যাংকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি দেখা গেছে। তবে আগের কিংবা বর্তমান কোনো ক্ষতিই আমানতকারীদের ওপর চাপানো হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ইসলামি শরিয়াহ নীতিমালার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার কারণে সব ধরনের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রকৃত আমানত এবং কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফা—উভয়ই পরিশোধ করা হয়েছে।’
গভর্নর আরও বলেন, একটি ছোট দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠী কয়েকটি শাখায়, বিশেষ করে ইউনিয়ন ব্যাংকের কিছু শাখায়, অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। তবে এতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি সাধারণ আমানতকারীদের এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
পুনরায় জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, নতুন ব্যবস্থাপনা আসার পর, বিশেষ করে চলতি মাসের এক তারিখের পর যেসব আমানত জমা হয়েছে, সেগুলোর ওপর কোনো ধরনের উত্তোলন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নেই।
তিনি যোগ করেন, আমানতকারীরা চাহিদামাত্র তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন এবং বাজারভিত্তিক হারে রিটার্নও পাবেন।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড