শিরোনাম:

নওগাঁয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, স্বামী আটক

নারী-‎শিশু নির্যাতন বন্ধে মহিলা জামায়াতের মানববন্ধন, ১০ দফা প্রস্তাবনা

ইফতারের পর মাথাব্যথা? এড়াবেন যেভাবে

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন উপকারী

ইফতারে সুস্বাদু ডিমের চপ

কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ

শিরোনাম২৪ঃ
প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
অন্যদৃষ্টি

সাম্রাজ্যবাদী লড়াইয়ে আপসহীন বিপ্লবী, স্বদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া বিংশ শতাব্দীর অগ্রগণ্য কবি নাজিম হিকমত। তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘জেলখানার চিঠি’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘আমাদের ছেলেটা বিছানায় শয্যাগত/ বাপ তার জেলখানায়/ তোমার ভারাক্রান্ত মাথাটা ক্লান্ত হাতের ওপর এলানো/

আমরা আর আমাদের এই পৃথিবী একই সূচ্যগ্রে দাঁড়িয়ে।/ দুঃসময় থেকে সুসময়ে/ মানুষ পৌঁছে দেবে মানুষকে/ আমাদের ছেলেটা নিরাময় হয়ে উঠবে/ তার বাপ খালাস পাবে জেল থেকে/ তোমার সোনালী চোখে উপচে পড়বে হাসি…।

বাগেরহাটের জুয়েল হাসান সাদ্দাম নামে হতভাগ্যের ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রী স্বর্ণালীর চোখজুড়ে উপচে পড়েনি হাসি।

পিতার অবর্তমানে মায়ের মতো নিরাপত্তাহীনতায় এবং ক্ষুধায় কাতর শিশুটি এই পৃথিবীতে আর বেড়ে ওঠার, বড় হবার সুযোগ পায়নি। অস্বাভাবিকভাবে নিজ জেলার কারাগার থেকে অনেক দূরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে বন্দি হিসেবে রাখা হয়। জীবনযুদ্ধে একা হতাশাগ্রস্ত বিপন্ন স্ত্রী নেন আত্মহননের পথ। আত্মহননের আগে অবুঝ সন্তানকেও অনন্ত যাত্রায় সঙ্গী করে নেন।

মর্মন্তুদ এই ঘটনার পর আইন ও সভ্যতার দলিল-দস্তাবেজ বলে, কারাবন্দি হতভাগ্য স্বামী এবং অবুঝ সন্তানের পিতাকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে তাদের শেষবারের মতো দেখতে দেওয়া। জানা যাচ্ছে, নিয়মানুযায়ী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেন স্বজনরা।

কিন্তু সরকার-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত বিজ্ঞ কর্তার মন গলেনি। যদিও যশোর জেলা প্রশাসন বলছে, প্যারোলের আবেদন করা হয়নি। এ কথা বলে কিন্তু দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। লাশ কেন শোকের মিছিলের সাইরেন বাজিয়ে কারাফটকে দেখতে গেল কারাবন্দিকে?

বাগেরহাট সদর উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয়ধারী কারাবন্দি যুবকটি দোষী, না নির্দোষ– পক্ষপাতহীন আইনি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তা নির্ধারিত হবে। কিন্তু তিনি দুর্ধর্ষ কোনো সন্ত্রাসী নন। তাঁর একটি রাজনৈতিক পরিচয় আছে। সে জন্য কয়েকটি মামলাও আছে। অকালে স্ত্রী-সন্তানকে হারানোর গভীর শোক আমৃত্যু সাদ্দামকে তাড়া করে ফিরবে।

সাদ্দাম একা নন। এই তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। খোদ নিরাপদ কারাগারে অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চিরায়ত সামাজিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার, আইনের শাসন– এসবই কি এখন দিন দিন প্রহসনে পরিণত হচ্ছে? সমাজে জমে ওঠা বহুমাত্রিক ক্ষোভ ও বেদনা প্রশমনের কোনো উদ্যোগ নেই, উস্কানি আছে। এর পরিণতি বড় উদ্বেগজনক।

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুবাদে নাজিম হিকমতের কবিতায় ফিরি। ‘যে সমুদ্র সব থেকে সুন্দর/ তা আজও আমরা দেখিনি।/ সব থেকে সুন্দর শিশু/ আজও বেড়ে ওঠে নি।/ আমাদের সব থেকে সুন্দর দিনগুলো/ আজও আমরা পাই নি।/ মধুরতম যে-কথা আমি বলতে চাই। সে কথা আজও আমি বলি নি।’

আলমগীর শাহরিয়ার: যুক্তরাজ্য প্রবাসী কবি ও গবেষক
alo.du1971@gmail.com

সূত্র: সমকাল

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত