নওগাঁ:
নওগাঁয় শহরতলী থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত রান্নায় জ্বালানির কাজে ব্যবহার হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। ফলে দিন দিন বাড়ছে এর চাহিদা। বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা হোটেল, রেস্তোরা ও চায়ের দোকানে ব্যবহার হচ্ছে এসব সিলিন্ডার। তবে গত ১৫ দিন থেকে নওগাঁয় বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ি কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাড়তি মুনাফা অর্জন করছে। সিলিন্ডার গ্যাস না পাওয়ায় অনেকে জ্বালানির জন্য লাকড়ি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। সিলিন্ডার থাকলেও নেই গ্যাস। ফাঁকা সিলিন্ডার পড়ে আছে দোকানে।
জেলায় ৩০ জন ডিলারের (পরিবেশক) মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়। জেলায় অন্তত দুই শতাধিক খুচরা ব্যবসায়ি রয়েছে। এরপর তাদের মাধ্যমে পৌঁছে ভোক্তাদের কাছে। সিলিন্ডার গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক ব্যবসায়িরা দোকান বন্ধ রেখেছে। গ্যাস না পাওয়ায় ভোগান্তীতে পড়েছে ক্রেতা-ভোক্তারা। বসুন্ধরা কোম্পানির সিলিন্ডার গ্যাস বাজারে একেবারে নাই। যমুনা, ওমেরা ও ফ্রেস কোম্পানির অল্প কিছু সংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও চড়া দামে ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে। বাজারে অল্প কিছু সংখ্যক ওমেরা, যমুনা ও ফ্রেস সিল্ডিার আছে। দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। তারপরও ক্রেতাদের দোকানে গিয়ে না পেয়ে হয়রানি হতে হচ্ছে।
শহরের মাস্টারপাড়া মহল্লার গৃহবধু মনোয়ারা বেগম বলেন, দুই কোম্পানির দুইটি সিলিন্ডার ব্যবহার করি। একটি অতিরিক্ত (রিজার্ভ) থাকে। একটি শেষ হলে আরেকটি ব্যবহার করতে হয়। পরে আরেকটি কিনে অতিরিক্ত রেখে দেয়। বসুন্ধরা সিলিন্ডার শেষ হয়েছে কিন্তু আর কিনতেও পারছি না। টাকা থেকেও পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হওয়া দরকারা।
চা দোকানী মজিদুল ইসলাম বাবু বলেন- দোকানে সপ্তাহে ২টি করে সিলিন্ডার গ্যাস লাগে। এক সপ্তাহ আগে ১ হাজার ২৫০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনেছিলাম। এর ৩ দিন পর ১ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। অনেকে এরচেয়ে বেশি দাম দিয়েও পাচ্ছে না। ব্যবসায়িদের কাছে হয়ত সিলিন্ডার আছে। তারা থেকেও দিচ্ছে না। আবার দাম বেশি হলেও দিচ্ছে। তারা কৌশলে দোকান বন্ধ করে ব্যবসা করছেন। এটাও তাদের একটা সিন্ডিকেট।
শহরের মুক্তির মোড়ে সিলিন্ডার গ্যাসের খুচরা ব্যবসায়ি মাসুদ রানা বলেন- কোন কোম্পানির সিলিন্ডার গ্যাস আমার কাছে নেই। ক্রেতারা এসে ফিরে যাচ্ছে। দোকান তালাবদ্ধ করে রাখতে হচ্ছে।
শহরের মুক্তির মোড়ে বসুন্ধরা সিলিন্ডার গ্যাসের ডিলারের (পরিবেশক) মনোয়ার হোসেন বলেন- গত ১৫ দিন থেকে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে গ্যাস নিতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। কোম্পানি থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কবে স্বাভাবিক হবে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না।
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারি পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন- বেশকিছু দিন থেকে সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতাদের বাড়তি কিনতে হচ্ছে। এমন অভিযোগে গত সপ্তাহে বাজার অভিযান পরিচালনা করে রশিদ না দেওয়া ও বাড়তি দামে বিক্রি করায় ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ির ১ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট রয়েছে।













