শনিবার , ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উদ্যোক্তা
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চট্টগ্রাম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য প্রযুক্তি
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

নওগাঁয় চলছে বোরো রোপন, সারের কৃত্রিম সংকটে বাড়তি দাম

প্রতিবেদক
শিরোনাম ২৪
জানুয়ারি ১৭, ২০২৬ ৩:০৫ অপরাহ্ণ

নওগাঁ :

নওগাঁয় শুরু হয়েছে ইরিবোরো রোপন। প্রচন্ড কুয়াশা ও ঠান্ডায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা। শ্রমিক সংকটে বাড়তি মজুরি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। ঠান্ডায় জমিতে চারা রোপনে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকটে কৌশলে কৃষকদের পকেট কাটছে ব্যবসায়িরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে- জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে ইরিবোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি ধান উৎপাদনের আশা কৃষিবিভাগের।

শস্য ভান্ডার খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁয় প্রচন্ড শীত ও কুয়াশাকে উপেক্ষা করে চলছে ইরিবোরো রোপন। জেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে জমি প্রস্তুত ও রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। কাটারিভোগ, জিরাশাইল, ব্রিআর-২৮, সুফলতা ও হাইব্রিড জাতের ধানের চারা রোপন করা হচ্ছে। এ বছর প্রচন্ড কুয়াশা ও ঠান্ডায় বোরো আবাদে জমিতে চারা রোপনে প্রায় ১৫ দিন দেরি হয়েছে। আবার শ্রমিক সংকটে বাড়তি মজুরি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকরা জানান- কৃষি কার্ড দিয়ে ডিলারের কাছে সরকারি মূল্যে স্বল্প সার পাওয়া গেলেও প্রয়োজনীয় চাহিদা পুরণ হচ্ছে না। যেখানে একই সময়ে জমিতে সার দিতে হবে, সেখানে কয়েক ধাপে ডিলারের কাছ থেকে সার কিনতে হবে। যা দিতে কোন কাজেই আসবে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়িদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে।

এবছর কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় চাষাবাদে বেড়েছে খরচ। প্রান্তিক কৃষকরা ধারদেনা করে আবাদের পর ফসল ঘরে উঠার আগেই স্বল্প দামে বিক্রি করতে বাধ্য হোন। তবে মৌসুমের শুরুতে অন্তত ১২শ টাকা মন দাম পেলে লাভবান হবেন তারা।

নওগাঁ সদর উপজেলার হারিয়াগাছী গ্রামের কৃষক হাফেজ মোহসিন আলী বলেন- ইরিবোরো রোপন থেকে শুরু করে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বিঘাতে খরচ পড়ে অন্তত ১৬-১৮ হাজার টাকা। ১২ বিঘা জমিতে ইরিবোরো রোপনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যে ২ বিঘা রোপন করা হয়েছে। কৃষি কার্ড দিয়ে ৩ বস্তা সার পেয়েছি। এ মৌসুমে ডিএপি, পটাস ও ইউরিয়া সারের প্রয়োজন অন্তত ২৫ বস্তা। সংকটের অজুহাতে ডিএপি সার বাজার থেকে বস্তাপ্রতি ২৫০-৩০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। সারসহ অন্যান্য উপকরণ মিলে বিঘাতে খরচ বেড়েছে অন্তত ১ হাজার টাকা করে।

দুবলহাটি গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক দুলাল বলেন- ৩ বিঘাতে ধানের চারা রোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছি। সার পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা বাজার থেকে সার কিনায় আমার ৩ হাজার টাকা বেশি খরচ পড়েছে। আমরা কৃষকরা সবসময় অসহায়। ফসল ফলাতে খরচ পড়ছে বেশি। আবার বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। সার সিন্ডিকেট রুখতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা

জমুনি গ্রামের কৃষক জালাল হোসেন বলেন- আমাদের এলাক কিছুটা নিচু হওয়ায় আগেই ধান লাগানো শুরু হয়। বছরে একটিমাত্র ফসল। বিঘাতে ৩০-৩৫ মন ফলন হয়। মৌসুমের শুরুতে ১ হাজার টাকা মণ বিক্রি হয়। অনেকেই ধারদেনা করে আবাদ করতে হয়। তবে শুরুতে ১২শ টাকা মণ দাম হলে সুবিধা হয়।

মান্দা উপজেলার বাঁকাপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন- অতিররিক্ত শীত ও কুয়াশায় চারা হলুদ হয়ে গেছে। কিছু চারা নষ্ট হয়েছে। প্রচন্ড শীতের কারণে জমিতে চারা রোপন করতে ১৫ দিনের মতো দেরি হয়েছে। আবার শ্রমিক সংকট থাকায় বিঘাতে ৩০০ টাকা বেশি মজুরি দিয়ে চারা রোপন করতে হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে মজুরি দিতে আসছেন শ্রমিক জহুরুল হক। তিনি বলেন- গত ১৫ দিন থেকে ৫জন সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ধান লাগানোর কাজ করা হচ্ছে। প্রতি বিঘায় মজুরি নেওয়া হয় ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। তবে প্রন্ডচ শীত ও কুয়াশায় জমিতে নামতে বেলা হয়ে যাচ্ছে। দেরিতে কাজ শুরু হওয়ায় আয়ও কম হচ্ছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার বাইপাস এলাকার রাসায়নিক সার ডিলার মেসার্স মজুমদার এন্ড ব্রাদার্স এর ম্যানেজার মনি মজুমদার বলেন- সরকারি মূল্যে সার বিক্রি করা হয়। পটাস ও ইউরিয়া সারের কোন সংকট নেই। তবে বেশকিছু দিন থেকে ডিএপি সারের সংকট রয়েছে। চাহিদা মতো সার পাওয়া যাচ্ছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছাঃ হোমায়রা মন্ডল বলেন- জেলায় ১০ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বীজতলা রোপণ করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৩০ হেক্টর বেশি অর্জিত হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় বীজতলা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চারা রোপনে কোন প্রভাব পড়বে না। এছাড়া কৃষকদের আবহাওয়া বুঝে চারা রোপনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন- চলতি মৌসুমে রাসায়নিক সারের কোন ধরণের সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের সরবরাহ রয়েছে। কোন ধরণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয় তার জন্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

সর্বশেষ - অন্যান্য

আপনার জন্য নির্বাচিত