‘নদীতে প্রাণের কান্না: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও’ এই প্রতিপাদ্যে শুরু হয়েছে ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযান। শনিবার সকাল ৭টায় কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীর ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার সীমান্ত চর ইটালুকান্দা থেকে নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানির বিস্তারের প্রতিবাদে শুরু হয় এই ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযান।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এবং ‘বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অভিযানের শিরোনাম- ‘নদীতে প্রাণের কান্না: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও’ ।
অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি এই একক পদযাত্রায় কুড়িগ্রামের রৌমারীর চর ইটালুকান্দা (ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা) থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৬০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ভোলা জেলার চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরিতে (বঙ্গোপসাগর উপকূল) গিয়ে যাত্রা সমাপ্ত করবেন।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের নদী-ব্যবস্থা ও অববাহিকার জনজীবন আজ চরম সংকটে। একদিকে নদ-নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের অভাব, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারক জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক জাতীয় পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানানোই এই পদযাত্রার মূল লক্ষ্য। ‘নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করবেন অভিযাত্রী।
সকালে রৌমারীর সীমান্ত সংলগ্ন চর ইটালুকান্দায় অভিযানের সূচনা লগ্নে শুভেচ্ছা ও সংহতি প্রকাশ করতে উপস্থিত ছিলেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল, এভারেস্ট বিজয়ী ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হাসান শাকিল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, ধরা জামালপুরের আহ্বায়ক মো. মাহবুবুর রহমান মহব্বত, সাংবাদিক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম আজাদ খান, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী এমদাদুল হক, ব্রহ্মপুত্র ভাঙনরোধ ও সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মহির, পরিবেশকর্মী মো. শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) জামালপুর-এর সদস্য সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। একদিকে উজানের পানি আগ্রাসন, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা আমাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাসফিকুল হাসান টনির এই ৬০০ কিলোমিটারের পদযাত্রা মূলত নীতিনির্ধারকদের চোখ খুলে দেওয়ার এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার একটি সাহসী পদক্ষেপ।
জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই অভিযান প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমূহের মনোজগতে পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে রেখাপাত করবে।
সূত্র: সমকাল








