মঙ্গলবার , ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উদ্যোক্তা
  6. খুলনা
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চট্টগ্রাম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য প্রযুক্তি
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

রেকর্ড উৎপাদন-মজুত, তবু চাল আমদানি, শঙ্কায় কৃষক

প্রতিবেদক
শিরোনাম ২৪
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

দেশে তিন মৌসুমেই– আমন, বোরো ও আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি গুদামে রয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের খাদ্যশস্যের মজুত। বাজারে নতুন আমন চালের সরবরাহও ভালো। তবুও সরকার বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি শুরু করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য সরু চালের অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণ এবং রমজান সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখা।

সরু চালের সাম্প্রতিক দাম বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে এই আমদানিতে ব্যবসায়ীদের চাওয়া পূরণ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের কৃষকরা। এতে আমনের দামের পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সদ্য শুরু হওয়া বোরো মৌসুমের আবাদেও।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত ১৮ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে ২৩২টি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারিভাবে দুই লাখ টন সিদ্ধ চাল ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমদানিকারকদের আগামী ১০ মার্চের মধ্যে চাল এনে বাজারে ছাড়তে হবে। শর্ত অনুযায়ী, আমদানিকৃত চালে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভাঙা দানা থাকতে পারবে এবং অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কারও নামে এই চাল ফের প্যাকেটজাত করা যাবে না।

এরই মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দুই দিনে ভারত থেকে ৩৬টি ট্রাকে এক হাজার ৪৪৭ টন চাল আমদানি হয়েছে। ভরা আমন মৌসুমে যখন দেশের প্রায় সব বড় মোকাম ও মিল এলাকায় নতুন চাল নামছে, তখন এমন আমদানিকে কৃষক ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন সময়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট চাল উৎপাদন হয়েছে চার কোটি ১৯ লাখ টন, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বোরোতে উৎপাদন হয়েছে দুই কোটি ২৬ লাখ টন, আমনে এক কোটি ৬৫ লাখ টন এবং আউশে ২৮ লাখ টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমন মৌসুমেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৫৯ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে কাটা শেষ হয়েছে ৫৩ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমির ধান। গড়ে প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ১১ টন হিসাবে এখন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ টন ধান উৎপাদন হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতে একই হারে ফলন হলে আমনের মোট উৎপাদন দুই কোটি টনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামে প্রায় ২১ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে চালই রয়েছে প্রায় ১৯ লাখ টন এবং গম রয়েছে দুই লাখ টনের কিছু বেশি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার পরও এই মজুতের বড় অংশ অব্যহৃত থেকে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এই মাত্রার সরকারি চাল মজুত নজিরবিহীন। তার ওপর চলতি আমন মৌসুম থেকে সরকার রেকর্ড পরিমাণ চাল সংগ্রহ করেছে। সাধারণত যেখানে বছরে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টন চাল সংগ্রহ করা হয়, সেখানে এবার তা প্রায় ১০ লাখ টনে পৌঁছেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরু চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা বেড়েছে। মূলত জিরাশাইল ও শম্পা কাটারির মতো সরু জাতের চালের দামই বেড়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জিরাশাইলের দাম পাইকারিতে দেড় শতাংশ বাড়লেও খুচরায় তা বেড়েছে ৮ শতাংশের কাছাকাছি। শম্পা কাটারির ক্ষেত্রেও খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির হার বেশি।

চালকল মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই দুটি জাতের ধানের উৎপাদন হয় বোরো মৌসুমে। এখন বোরো চাল না থাকায় সরবরাহ কম, ফলে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির কোনো প্রভাব মাঝারি বা মোটা চালের ওপর পড়েনি। বরং নতুন আমনের চাল আসায় অনেক এলাকায় মোটা চালের দাম কমতির দিকে।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, জিরাশাইল ও শম্পা কাটারির দাম মিলগেটে দুই টাকার মতো বেড়েছে। কিন্তু অন্য কোনো চালের দাম বাড়েনি। নতুন চাল আসায় অনেক জায়গায় দাম বরং কমছে।

দুটি গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের সন্ধিক্ষণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দাম বৃদ্ধির অজুহাতে আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করে বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করা। সরু চালের সীমিত সরবরাহকে বড় করে দেখিয়ে একটি মহল আমদানির পক্ষে জোরালো তৎপরতা চালাচ্ছে। খাদ্য অধিদপ্তরের ভেতরের একটি অংশও এই উদ্যোগে নীরব সমর্থন দিচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র বলছে, এর আগেও বেসরকারিভাবে আমদানিকৃত চালের একটি অংশ সরকারকে বিক্রি করে মিলাররা প্রতি কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত মুনাফা করেছেন। এবারও একই পথ অনুসরণ করা হচ্ছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মজুত, স্থানীয় উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা দেখে সাধারণত আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এখন সরকারের মজুত খুবই ভালো, স্থানীয় উৎপাদনও ভালো হয়েছে। বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। এখন আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে কোনো একটা গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সরবরাহ ভালো থাকার পরও যদি আমদানি করা হয়, তাহলে সেটা কৃষকের ওপর প্রভাব পড়বে। বোরো মৌসুমে কৃষকের ধানের দাম কমে যেতে পারে। এটা তখন কৃষকদের ক্ষতি করবে। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত।

মিল মালিক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, এখন যদি বাজারে আমদানিকৃত চাল ঢোকে, তাহলে মিলগেটে ধানের দাম কমার ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মাত্র দুটি সরু জাতের চালের দাম বাড়ার কারণে পুরো বাজারের জন্য আমদানির দরজা খুলে দেওয়া যৌক্তিক নয়। বরং বাজার মনিটরিং জোরদার করে মজুতদারি ও কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই বেশি কার্যকর হতো।

খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সরু চালের উৎপাদন হয় মূলত বোরো মৌসুমে। বোরোর চাল আসতে দেরি আছে। সে কারণে সরু চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানির প্রয়োজন হচ্ছে।

সূত্র: সমকাল

সর্বশেষ - অন্যান্য

আপনার জন্য নির্বাচিত

‘সাহেব সিন্ডিকেট’ ছাড়া দুবলার চরে শুঁটকি বিক্রি মানা

ঢাকার পুলিশের দাবি ‘ফয়সাল ভারতে’, মেঘালয় পুলিশ বলছে ‘না’

বিএনপির ইশতেহারে নারী ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

কেবল বিএনপি রয়ে গেছে দেশের মানুষের পাশে: তারেক রহমান

পদত্যাগের পর ফের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হলেন সায়েদুর

পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত, নির্দেশনা জারি

কোন পরিস্থিতিতে নেবুলাইজার ব্যবহার করা উচিত?

৩১ ডিসেম্বরের স্থগিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ

নির্বাচন কমিশন সরকারি কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর প্রচার চালাতে পারবেন না

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল