শিরোনাম:

মেমোরি চিপ সংকটে চীনের দিকে ঝুঁকছে এইচপি, ডেল, এসার ও আসুস

বদলে যাওয়া তরুণ প্রজন্মের জীবনধারা

অবশেষে মামলা থেকে স্থায়ী জামিন পেলেন হিরো আলম

চামড়ার জুতা ফেটে যাচ্ছে? যেভাবে যত্ন নেবেন

সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ বাঁচাবেন কী ভাবে?

৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে হঠাৎ উৎসে কর দ্বিগুণ

ডেইলি রিপোর্টঃ
প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার গৃহিণী সালমা আক্তার। তিনি সোনালী ব্যাংকের ট্যানারি মোড় শাখা থেকে পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন। এ বিনিয়োগ থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে মুনাফা পেয়েছেন চার হাজার ৫৬০ টাকা। কিন্তু জানুয়ারি মাসে হঠাৎ মুনাফা কমে দাঁড়ায় চার হাজার ৩২১ টাকা।

এক মাসের ব্যবধানে ২৩৯ টাকা কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে সালমা ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করেন। ব্যাংক থেকে জানানো হয়, মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই গোপনে উৎসে করা বাড়ানোয় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর মতো অনেক গ্রাহক একই কারণে মুনাফা কম পাচ্ছেন।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন ও জনসংযোগ) মো. রেজানুর রহমান সমকালকে বলেন, আগে সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উৎসে কর ছিল ৫ শতাংশ। পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উৎসে কর ছিল ১০ শতাংশ। তবে সর্বশেষ আয়কর আইনে (২০২৩) সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সব ক্ষেত্রেই ১০ শতাংশ উৎসে কর আরোপ করা ছিল। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। জানুয়ারি থেকে ছাড় প্রত্যাহার করায় সবার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হচ্ছে। তাই পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারী গ্রাহকরা জানুয়ারিতে মুনাফা কিছুটা কম পাচ্ছেন।

কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে– এমন প্রশ্নে রেজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে জানানো হয়েছে। তবে এখনও প্রজ্ঞাপন হয়নি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সমকালকে বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।

আগামী রোববার জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসিন্দা কমরুল ইসলাম তাঁর স্ত্রীর নামে পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনেন। এ সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হয় জনতা ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে। তিনিও ব্যাংক শাখায় গিয়ে জানতে পরেন, হঠাৎ করে উৎসে কর দ্বিগুণ কেটে নেওয়ায় তাঁর মুনাফাও কমে গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সমকালকে বলেন, কোনো ধরনের প্রজ্ঞাপন বা ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে সরকার এভাবে বাড়তি উৎসে কর কাটতে পারে না। অবিলম্বে তিনি আগের হারে উৎসে কর কার্যকর করে কমে যাওয়া মুনাফা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

সঞ্চয়পত্র মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষের নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয়। বিশেষ করে ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলক কম উৎসে কর এ খাতে বিনিয়োগের অন্যতম প্রণোদনা ছিল। কিন্তু নতুন পরিবর্তনে সেই সুবিধা কার্যত উঠে গেল।

হাজারীবাগের সালমা আক্তার বলেন, ‘আমরা যারা ছোট বিনিয়োগকারী, তাদের ওপর কর বাড়ানো হলো নীরবে। কোথাও কোনো ঘোষণা নেই, কোনো প্রজ্ঞাপন নেই। এভাবে চুপিসারে সিদ্ধান্ত নেওয়া কেন? জিগাতলার পোস্ট অফিস এলাকার আয়েশা জানান, সঞ্চয়পত্রের দুই লাখ টাকার বিনিয়োগ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এক হাজার ৮২৪ টাকা মুনাফা পেয়েছিলেন। কিন্তু একই বিনিয়োগ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মুনাফা এসেছে এক হাজার ৭২৮ টাকা। এই টাকা দিয়ে তিনি সংসারের টুকিটাকি খরচ করেন। এখানেও সরকার হাত দিল?

গত ৩১ ডিসেম্বর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমানোর ঘোষণা দিলেও চার দিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। ফলে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যে মুনাফার হার ছিল, তা চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেও বহাল রয়েছে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি ধাপ বহাল রাখা হয়েছে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচে বিনিয়োগকারীরা থাকছেন প্রথম ধাপে এবং এর বেশি বিনিয়োগকারীরা থাকছেন দ্বিতীয় ধাপে। স্কিমভেদে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।

সূত্র: সমকাল

পূর্ববর্তী সংবাদ পরবর্তী সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত