পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের পাশাপাশি এখন থেকে মেয়াদি আমানতকারীরাও দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। আর আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে মেয়াদি আমানতের মুনাফা তোলা যাবে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহককে দেওয়া হবে। গ্রাহকের অভিযোগ জানাতে শিগগিরই হটলাইন চালু হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, ড. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পাঁচ ব্যাংকের লোকসানের কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য আমানতের ওপর সম্প্রতি ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক ।
এ নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়ানোর ফলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নানা অনিয়মের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে সরকার। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা আছে।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, লোকসানের কারণে শরিয়াহ আইন অনুযায়ী এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়া যায় না। যে কারণে প্রথমে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে দুই বছরের জন্য মুনাফা না দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন যে ৪ শতাংশ দেওয়া হবে, তা সরকারের দিক থেকে ‘ইহসান’ বা অনুগ্রহ। এ জন্য সরকারের ব্যয় হবে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। বুঝতে হবে, এসব টাকা একজন নিয়ে গেছে।
গভর্নর জানান, ২০২৩ সাল পর্যন্ত আগের হারে মুনাফা দেওয়া হবে। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এক বছরের বেশি মেয়াদি আমানতে সাড়ে ৯ শতাংশ এবং ৬ মাস থেকে এক বছর মেয়াদি আমানতে ৯ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন করা হচ্ছে, তার শুধু আসল দেওয়া হবে। এর পরও তাদের দিক থেকে খুব ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে গভর্নর আরও বলেন, সবার আমানত পুরোপুরি সুরক্ষিত। তবে পর্যায়ক্রমে তুলতে দেওয়া হবে। যে কারণে স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে। একবারে টাকা উত্তোলনের চাপ কমাতে যা করা হয়েছে। তা না করলে সবাই উত্তোলনের চেষ্টা করবে। আগামী মাস থেকে সব মেয়াদি আমানতের মুনাফা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা। এর পর কারও যদি নগদ টাকার দরকার হয় সে জন্য ৪০ শতাংশ ঋণ নিতে পারবেন।
গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোর বাস্তবিক চিত্র বোঝার জন্য শাখায় পরিদর্শন করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তারা না বুঝে অনেক ধরনের বিধিনিষেধ দিয়ে ফেলছেন, যা গ্রাহকদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিযোগ নেওয়ার একটি হটলাইন নম্বর চালু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ফোন, ইমেইল বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানো যাবে।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কিছু দুষ্টচক্র ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। কিছু মহল একীভূত কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। যে যত অপপ্রচারই করুক, সবার আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ নিয়ে অন্যের কথায় কান দেওয়া উচিত হবে না। গুজবের কোনো শেষ নেই। আগেও জানানো হয়েছে, এখনও স্পষ্টভাবে তিনি বলছেন– কারও আমানত মার যাবে না।
সূত্র: সমকাল







