যশোরের পৃথক দুটি স্থানে দুজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে যশোর সদরে চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
এছাড়া শুক্রবার সকালে মনিরামপুর উপজেলার পল্লিতে একটি কাঁঠাল গাছ থেকে শফিকুল ইসলাম (৫৫) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের দাবি, তাকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে যশোর সদরের রামনগর ইউনিয়নের রামনগর শ্রীকান্তনগর বাজারে আরাফাত হোসেনের বিকাশের দোকানে চুরি করতে যান শামীম। দোকানের সামনের দরজার পাল্লা ভেঙে ভেতরেও প্রবেশ করেন তিনি। তখন দোকানমালিক ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে সিসিটিভি ক্যামেরায় দোকানের মধ্যে মানুষ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে শামীমকে ধরে মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানিয়েছেন, মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়।
যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর কাজী বাবুল হোসেন জানান, চুরির ঘটনায় পিটুনিতে শামীম হোসেন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছি। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গেছে। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।
অপরদিকে, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের ইছালী গ্রামের একটি মাঠ থেকে কৃষক শফিকুল ইসলাম (৫৫) ইসলামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতের ছেলে রিফাত ইফতেখার বলেছেন, প্রতিদিন ফজরের আগে আব্বু মাঠে সেচযন্ত্র চালু করতে যান। সেখান থেকে ফিরে তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার ভোরে আব্বু যথারীতি আম্মুকে বলে মাঠে রওনা হন। তখন আব্বু মাকে বলেছিলেন বাড়ি ফিরে নামাজ পড়ে মাঠে সার দিতে যাবেন। এরপর আব্বু আর বাড়ি ফেরেননি। সকালে খবর পাই, বাগানে গাছের সঙ্গে আব্বুর লাশ ঝুলছে। আব্বুকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মনিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান বলেন, ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে মর্গে পাঠানো হয়েছে। শফিকুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে। মৃতের দেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
সূ্ত্র: যুগান্তর