নওগাঁ:
দেয়ালে সাটানো একটি কালো ব্যানার। ব্যানারের এক পাশে একটি ‘কালো বিড়াল’ বসে আছে। ব্যানারের কালো অবয়বের সাথে কালো বিড়ালটি প্রায় মিশে যাওয়া অবস্থা। তবে এতো কালোর মাঝেও তার ভিতর থেকে দু’টো চোখ আলো উঁকি দিচ্ছে। যেন নিভু নিভু আলোটি একটি আশার বার্তা দিতে চাই।

কালো বলতে যে শুধু অশুভ বুঝায় এমন না। কালোর মধ্য থেকেও আলো ছড়িয়ে পড়ে। যা ভালোর জন্য হতে পারে। একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নওগাঁ নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘কালো বিড়াল’। চলচ্চিত্র সত্তরের দশকের গল্প নিয়ে রচিত। কালো বিড়াল কে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রে রয়েছে প্রেম, ভালবাসা ও আবেগ..
চলচ্চিত্রটি নওগাঁর বিভিন্ন স্থান এবং বগুড়ার সান্তাহারে ধারণ করা হয়েছে।
চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন- নওগাঁর সন্তান সোহরাব হোসেন উল্লাস। গল্পটি লিখেছেন নাট্যকার, নির্মাতা এবং অভিনয়শিল্পী রাজা ফকির।
শুক্রবার রাত ৯টায় নওগাঁ শহরের আয়োজন রেস্টুরেন্ট এন্ড কমিউনিটি সেন্টারের সার্বিক সহযোগিতায় ‘কালো বিড়াল’ এর শুভ মহরত হয়। সৌজন্যে ছিলো- নওগাঁ ফিল্ম সোসাইটি।
আয়োজন রেস্টুরেন্ট এন্ড কমিউনিটি সেন্টারের স্বত্ত্বাধিকারী মামুন হাসান নয়ন এর উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন- কবি রবিউল করিম, শিক্ষক গোলাম সাকলাইন, নাট্য অভিনেতা মাগফুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ ও নওগাঁ জেলা মিউজিক ফোরামের সভাপতি শিল্পী খাদেমুল ইসলাম ক্যাপ্টেন সহ অন্যরা।
ডিজাইনার নাবিলা বর্ষা জানান- জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা। কাজে অনেক ভুল ছিলো এবং তা সংশোধন করতে পেরেছি। পরিচালক মহোদয় কাজের ক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়েছেন। তবে আগামীতে আরো কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদী।

এ চলচ্চিত্রে নায়িকার ভূমিকায় ছিলেন নিদ্রা দে নেহা। তিনি বলেন- স্ক্রিপট পড়ে এবং নাম নিয়ে খুবই ইন্টারেস ছিলো। একটি প্রেমের গল্প। গল্পটি পড়ে অভিভূত হয়েছি। পরে পরিচালককে ফোন করে কনফার্ম করলাম আমি চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই।
তিনি বলেন- কালো বিড়াল শুনে অনেকের মনে নেগেটিভ ধারণা হবে। তবে সাদা বা কালো কোন বিষয় না। গল্পটি ফুটিয়ে তুলতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।
এ চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করা আরিফিন জিলানি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন- এ ধরনের গল্পের জন্য বড় বাজেটের দরকার হয়। আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জিংয়ের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়েছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং নিজের সবটা ঢেলে দিয়েছি এ সিনেমার জন্য। আর শুটিংয়ের সুবাদে নওগাঁয় প্রথম আসা। তারপরও মনে হচ্ছে অনেকবার এসেছি।
চলচ্চিত্রটির নির্মাতা সোহরাব হোসেন উল্লাস বলেন- নওগাঁর সন্তান হয়েও ব্যস্ততায় কাজ করা হয়ে উঠেনি। আবার কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও সাহস ছিলো না। ‘কালো বিড়াল’ চলচ্চিত্রের জন্য একজন দেবিকে খুঁজছিলাম। অনেক খুঁজছি কিন্তু কেউ তেমন সাড়া দেয়নি। পরে পেয়েও গেলাম নিদ্রা দে কে। এ চলচ্চিত্র নির্মাণে যারা সহযোগীতা করেছেন এবং টিমদের অসংখ্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
এ চলচ্চিত্রে আরো কাজ করেছেন- জগদিস, মাগফুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ, রহিম সহ আরো অনেকে।
অভিজ্ঞ জনবল সংকটের মধ্য দিয়েও এতো সুন্দর ভাবে গুছিয়ে ও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চলচ্চিত্রটি। সুস্থ সংস্কৃতির ধারা আবারো ফিরে আসবে এমন প্রত্যাশা সংস্কৃতি প্রেমিদের। আশার কথা- নওগাঁয় বেশ কয়েকটি নাটক ও সিনেমা নির্মিত হয়েছে। যা জেলার জন্য আগামীতে আশা জনক। আর ‘কালো বিড়াল’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে জেলা দরজা খুলবে এবং নতুন দিগন্ত ও আলোকিত হবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।